আগামী এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী  

 

ডেস্ক নিউজ।।

আগামী এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে। গত দুই বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

এর প্রধান কারণ এবার দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিধিনিষেধ, মানুষজন ছুটিতে বাড়িতে থাকায় বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে এডিস মশার জন্ম হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতি এক মাসের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

সোমবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্লের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।

বিভিন্ন দেশের ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনে প্রচুর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। তাদের থেকে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

এতেও আমরা সন্তুষ্ট নই, তাদের সঙ্গে তুলনা করা এই নয় যে আমরা বসে আছি। হয়তো আগামী এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যাবে। আমরা সমন্বিতভাবে মশা নিধনে কাজ করে যাচ্ছি।

কিন্তু দুঃখজনক, এবার ডেঙ্গুতে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বজন হারিয়েছেন। আমরা আর একজনকেও হারাতে চাই না। এবার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে এটা পরের সময়গুলোতে কাজে লাগিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সাল থেকে মশা নিধনের একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ নিই। ওই বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২০ সালে কাজ করি সেজন্য আক্রান্ত হয় মাত্র ১৪০৫ জন। কিন্তু ২০২১ সালে দেখলাম অনেক বেশি আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। তারপরও দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিধিনিষেধ আর ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামের বাড়ি চলে যায়।

যে কারণে পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে মশার জন্ম হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর শ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় সেখানেও মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তবে এখন চলে এসেছেন। আমাকে ফোন করে এ তথ্য জানিয়েছেনও। তিনি যথেষ্ট কাজ করছেন।

দক্ষিণে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে না। পাশের বাড়ির মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যাচ্ছে তারপরও এরা সচেতন হচ্ছে না।

এদের নিজে থেকে সচেতন হতে হবে। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি, মশা নিধনের জন্য জরিমানা করছি। এ মাসের মধ্যে এর প্রকোপ অনেক কমে যাবে বলে জানান তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে না। এমন অভিযোগের অনেকটাই সঠিক।

কিন্তু এর জন্য আমরাও দায়ী। জনপ্রতিনিধিদের সঠিকভাবে কাজ করানোর দায়িত্ব আমার।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমেছে। তবে তার মধ্যেও বর্তমানে ৮০ শতাংশ পৌরসভার বেতন-ভাতা পরিশোধ করা আছে।

পৌরসভাগুলোতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হবে। বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রী রাজি হয়েছেন। এতে সেবা উন্নত হবে।

জবাবদিহি বাড়বে, আয় বাড়বে এবং সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। তাছাড়া, জেলা পরিষদগুলোতে অডিটর নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে প্রতিষ্ঠান স্বনির্ভর হবে।

তিনি আরো বলেন, জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে আগামীতে বাড়িঘর নির্মাণ করতে হলে, এমনকি গ্রামেও অনুমতির বিধান করা হচ্ছে। জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার আইন পরিবর্তনের কাজ চলছে।

জেলা পরিষদের সদস্য কমিয়ে আনার জন্য প্রত্যেক উপজেলা থেকে একজন এবং তিন উপজেলা থেকে একজন মহিলা সদস্য নিয়োগের বিধান রেখে আইন প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) গ্যাজেট চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। তাছাড়া, স্থানীয় পরিষদের অধীনে প্রতিটি রাস্তাঘাট নির্মাণ কাজের জন্য আলাদা আইডি নাম্বার দেওয়া হবে। এতে কাজের সুষ্ঠু তদারকিসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে সহজে শনাক্ত করা যাবে।

কেউ গাফিলতি করলে সহজে ধরা যাবে এবং প্রতিটি নির্মাণ কাজের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হবে। সময়ের আগে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে দায়িত্ব নিতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে এখন ২৭১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে লোকাল গভর্মেন্ট ডিভিশন ১৫টি, এসআইএলজি ১৫টি, ওয়াসা ১৯টি, এলজিএডি ১২৭টি, ডিপিএইচই ৪৯টি, সিটি করপোরেশন ৬০টি।সূত্র প্রতিদিনের সংবাদ

আরো পড়ুনঃ